ফ্রিল্যান্সিং করতে কি প্রয়োজন
আরো পড়ুন•ফ্রিল্যান্সিং এর নামে প্রতারণা
১ নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ প্রয়োজন
২. ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়া প্রয়োজন
বাংলাদেশে ইন্টারনেটের খরচ খুব বেশি। মোবাইল অপারেটর গুলো গর্ব করে বিজ্ঞাপন দেয় ২০ মেগাবাইট ২০ টাকা, অর্থাৎ প্রতি মেগাবাইট ১ টাকা। এই খরচে অনলাইনে আয় করতে হলে অনেক সময় আয়ের টাকার পুরোটাই ইন্টারনেট বিল দিতে চলে যাবে। ভুলে যাবেন না কখনো কখনো অনেক বড় ফাইল আপলোড-ডাউনলোড করা প্রয়োজন হবে। ফটোশপে তৈরী বড় একটি বিলবোর্ড ডিজাইন কয়েকশত মেগাবাইট পর্যন্ত হতে পারে। এবিষয়ে সরকারের বক্তব্য, তারা ব্যান্ডউইডথ এর দাম কমিয়েছেন। আইএসপিগুলি দাম কমাচ্ছে না, ব্যান্ডউইডথ পুরো ব্যবহার করছে না। এটুকু ব্যাখ্যা দিয়েই সরকার চুপ। কিন্তু আপনি মনে রাখবেন যে যাই বলুক আপনাকে ওয়াইফাই ছাড়া কাজ করা অনেক কঠিন হবে।
৩. বিদ্যুত প্রয়োজ
আমি আগেই বলেছি আপনাকে সারাদিন কম্পিউটারের সামনে বসে থাকতে হতে পারে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত ছাড়া আপনি কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারেন না। একজন ফ্রিল্যাপারকে সময়েরসাথে তাল মিলিয়ে কাজ করতে হয়। যে কাজ নির্দিষ্ট কয়েক ঘন্টার মধ্যে দিতে হবে সেকাজ ঘন্টাপ্রতি লোডসেডিং এর মধ্যে করতে পারেন না। তখন সমস্যায় পড়ে যাবেন।
8. অর্থ লেনদেন সহজ হওয়া প্রয়োজন
আপনি সমস্ত কাজ করবেন ইন্টারনেট ব্যবহার করে, অর্থ পাওয়ার (এবং প্রয়োজনে দেয়ার) কাজটিও ইন্টারনেটেই সাৱতে হবে। উন্নত দেশগুলিতে মানুষ ব্যাংকে যায় না, টাকা পকেটে নিয়ে বেড়ায় না। সব যায়গায় ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে। সে সমস্ত দেশে সরকারের পক্ষ থেকে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে বাধ্য করা হয়। তাদের যুক্তি, এভাবে লেনদেন করলে রেকর্ড থাকে। তথ্য ফাকি দেয়া যায় না। অদ্ভুতভাবে, বাংলাদেশে বিপরীত ধারনা পোষন করেন। বলা হয় যদি অনলাইনে লেনদেনের সুযোগ দেয়া হয় তাহলে অবৈধ লেনদেন বেড়ে যাবে। অনলাইনে কাজ করে টাকা পাওয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি হচ্ছে ক্রেডিট কার্ড এবং পে-পল বিনামুল্যের অনলাইন ব্যাংকিং। বাংলাদেশ থেকে পে-পল ব্যবহার করা যায় না। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে এত বেশি শর্ত যে সাধারন মানুষের নাগালের বাইরে। কাজ করার পর দেখা যায় তারা যে পদ্ধতিতে টাকা দেয় সেই পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ বাংলাদেশে নেই। তার পরিশ্রমের টাকা অন্যের হাতে থেকে যায়।আপাতত এটুকু পরামর্শ দেয়া যেতে পারে, আগে টাকা দেয়ার পদ্ধতি খোজ নিয়ে তারপর কাজ শুরু করুন। কিন্তু এই ব্যবস্থা চিরস্থায়ী হতে পারে না। এখানে পরিবর্তণ প্রয়োজন।
৫. ব্যাংকিং ব্যবস্থা সহজ হওয়া প্রয়োজন
অনলাইনে কাজ করে আপনি ক্যাশ টাকা আশা করতে পারেন না। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব টাকা উঠাতে হবে।এ কাজটি কারো কারো জন্য সহজ, সকলের জন্য না।" বাংলাদেশে বর্তমানে ডলারের দাম ৮২ টাকার ওপর। কোন কোন ব্যাংক ৬৫ টাকা পর্যন্ত দেয়। এটা প্রকাশ্য ডাকাতি ছাড়া আর কিছু না। অভিযোগ করার কোন যায়গা নেই, করলেও কনো ফায়দা নেই। তাদের আচরন দেখে মনে হয় তারা মনে করেন ফ্রিল্যান্সার পরিশ্রম করে আয় করেননি, বরং চুরি করেছেন। যদি দেশের অর্থনীতিতে ফ্রিল্যান্সিংকে ভূমিকা রাখতে হয় তাহলে ব্যাংককে গ্রাম পর্যায়ে নিতে হবে। রাতে করে ঘরে বসেই কেউ ফ্রিল্যান্সার হতে পারেন।
৭. কাজের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন
অল্প সময়ে তৈরী হওয়া বাংলাদেশে টিভি বিজ্ঞাপনের মান অত্যন্ত উঁচু, অনেক টিভি অনুষ্ঠানও উঁচু মানের, দ্রুত উন্নতির দিকে হচ্ছে। অন্যদিকে কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা নিয়ে বলছি চলচ্চিত্র ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। এটাই বলে দেয় কাজের সুযোগ মধ্যে কি পরিবর্তন আনতে পারে। টিভির জন্য কাজ করলে টাকা পাওয়া যায়। শতশত প্রোডাকশন হাউজ গড়ে উঠেছে একারনেই। এনিমেশন, ভিডিও এডিটিং বা গ্রাফিক ডিজাইন ব্লগিং করলে অর্থ-সম্মান পাওয়া যায় বলে এদিকে যত সহজে কেউ আকৃষ্ট হয় তত সহজে প্রোগ্রামিং ও হয় না। কারন প্রোগ্রামার এর বাজারে চাহিদা নেই। আরেকটি উদাহরন দেখা যেতে পারে। একজন ভাল ক্রিকেটার যথেষ্ট আয়ের সুযোগ পান, যেকারনে শিশু-কিশোররা ক্রিকেটার হতে চায়। বাংলাদেশের ক্রিকেট দ্রুত উন্নতি দিকে হচ্ছে । ফুটবলার আয়ের জন্য পরিচিত না বলে কেউ ফুটবলার হতে চায় না। অথচ একসময় ফুটবল অত্যন্ত জনপ্রিয় খেলা ছিল, ঢাকার একজন ফুটবলারের আয় দেখে কলকাতার ফুটবলার আক্ষেপ করতেন। যে কোন কাজের জন্য প্রথমে প্রয়োজন আগ্রহ আর আগ্রহ না হলে কাজ করা যায় না। অনলাইনে কাজের ক্ষেত্রে আগ্রহ সৃষ্টি করা হয়েছে। পরের ধাপ দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা। স্থানীয়ভাবে কাজ করার সুযোগ না থাকলে দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা। বাড়ার সুযোগ থাকে না। টিভি যেভাবে ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে সেভাবে অন্য কাজগুলিকেও ব্যবসা বা আয়ের সাথে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করি।
দুঃখজনক বিষয় ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে প্রায় নিয়মিতভাবেই প্রচারনা চালানো হয়। কর্মশালা থেকে শুরু করে সংবাদ মাধ্যমে ফলাও প্রচার করা হয়। আশ্চর্যজনকভাবে সমস্যার সমাধানের কথাগুলি বলা হয় না। বরং বাংলাদেশ থেকে কত সংখ্যক আগ্রহি মানুষ কোন ফ্রিল্যান্সিং সাইটের সদস্য হয়েছেন সেকথা বলা হয়। সদস্য হওয়া খুব সহজ। যে কোন সময় যে কেউ হতে পারে। কাজ করে সফলতা লাভ করা অনেক কঠিন। সেই পরিসংখ্যান দেখার ব্যবস্থা থাকলে হয়ত জানা যেত বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়। কিন্তু আমার এ কথা শুনে হতাশ হবেন না চেষ্টা করুন সফলতা অবশ্যই পাবেন।
আরো পড়ুন: ব্লগিং করে আয়

0 Comments
দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন