অনলাইন থেকে আয়। এবং প্রতারণা
ইন্টারনেট থেকে আয় করা এখন আমাদের পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে কিন্তু আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রতারণার শিকার হচ্ছি আজকে আমরা আলোচনা করব অনলাইনে আমরা কিভাবে প্রতারণা হতে বাঁচতে পারি।
আরো পড়ুন: ইন্টারনেট থেকে আয় আসলে কি সোজা?
আমরা এখন প্রতিনিয়ত ফেসবুক এবং ইউটিউবে দেখি যে অনলাইনে আয় করুন খুব সহজে প্রতিদিন ১০ ডলাল এরকম ভিডিও দেখে আমরা মনে করি অনলাইন থেকে আয় করা খুব সহজ। আসলে কিন্তু অনলাইনে আয় করা কতটা সহজ না।যতটা ইউটিউবার বলে থাকে। আমরা অনেকে এই সমস্ত ভিডিও দেখি কিছুদিন কাজ করে টাকা না পেয়ে প্রতারিত হয়।
যারা ই-মেইল ব্যবহার করেন তাদের একটি সাধারন অভিজ্ঞতা স্ক্যাম মেইল পাওয়া। একদিন মেইল পেলেন সেখানে লেখা আছে আপনি অমুক লটারীতে ১০ লক্ষ ডলার জিতেছেন। টাকা পাওয়ার জন্য নিজের পরিচয় নাম-ঠিকানা দিয়ে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। গুগল লটারী, ইয়াহু লটারী, মাইক্রোসফট লটারী, আরো এরকম বিভিন্ন জনপ্রিয় সাইটের নাম দিয়ে আপনাকে প্রতারণা করবে। নাম দেখে আপনি আগ্রহি হয়ে নিজের নাম-ঠিকানা দেওয়াটাই স্বাভাবিক । আপনি ভাবতে পারেন কোন সমস্যা তো নেই। তারা তাদের প্রচারের জন্য এই সামান্য টাকা আপনার কে দিয়ে পারে। প্রতারনা এখান থেকে শুরু। উত্তর দিলে এরপর মা বলবে অমুক কাজ করতে ১০০ ডলার প্রয়োজন হবে, সেটা পাঠান। এরপর আরেক কারনে আরো ১০০ ডলার। এভাবে যতদিন আপনার কাছ থেকে টাকা নেয়া যায় ততদিন নিতে থাকবে। কিছুটা সচেতন হলে নিজেকেই প্রশ্ন করতে পারেন, আপনি লটারীর টিকিট না কিনে কিভাবে আইরিশ লটারীর টাকা জিতলেন, কিংবা ব্যবহার করেন গুগলের জি-মেইল আপনাকে ইয়াহু পুরস্কার দেবে কেন ? আর যদি প্রযুক্তির খবর রাখেন তাহলে ধরেই নেবেন মাইক্রোসফট লটারী বা এধরনের পুরস্কার কখনো দেয় না। অনেক প্রতারনা ধরা এতটা সহজ না। বিশেষ করে সহজে আয়ের বিষয় যেখানে জড়িত। এভাবে আয় করা যায় একথা ঠিক, কাজেই পুরোপুরি অবিশ্বাস করতে পারছেন না। মনে হচ্ছে সত্যি হলেও হতে পারে। প্রতারিত না হওয়ার জন্য বেঞ্জামিন ফ্রাংকলিন এর কথা স্মরন করতে পারেন। তিনি বিজ্ঞানী এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তার অনেক কথা প্রবাদের মত সারা বিশ্বে ব্যবহার করা হয়। তার একটি হচ্ছে, এক টাকা বাচানোর অর্থ এক টাকা আয় করা। এর জন্য সব সময় সাবধানে থাকবেন।
আপনার ১০০ টাকা লাভ দেয়ার কথা বলে ১ টাকা খরচ করতে বলা হবে। যেমন বাংলাদেশে গাছ লাগালে বাড়ি দেয়া হবে এমন প্রচারনার সাথে তুলনা করা যেতে পারে । আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে লক্ষ লক্ষ মানুষ নিজের টাকা দিয়েছেনও। তারচেয়ে বরং সেই একটাকা জমিয়ে সেটাই আয় করুন। বিশ্বে প্রতারকের অভাব নেই। ইন্টারনেটে পরিচয় গোপন রেখে কাজ করা যায় বলে ইন্টারনেটে প্রতারনার সুযোগ তুলনামূলক বেশি। আর যারা সহজে আয়ের পথ খোজেন তাদের প্রতারিত করা তুলনামূলক খুব সহজ। কিভাবে সহজে আয় করবেন সে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে কি করলে প্রতারিত হবেন না সেটা জানা জরুরী। আপনি নিশ্চয়ই এমন কাজে নিজের অর্থ-শ্রম-সময় ব্যয় করতে চান না যেখানে ফলাফল শুন্য। প্রতারক সবসময়ই সাধারন ব্যক্তিদের থেকে বেশি বুদ্ধিমান। এমন নতুন নতুন পদ্ধতি বের করে যা আগে থেকে শতর্ক থাকা যায় না। তারপরও কিছু পদ্ধতি সাধারনভাবে প্রতারনার পদ্ধতি হিসেবে স্বিকৃতি পেয়েছে। সেগুলি সম্পর্কে জেনে নিজেকে সাবধান রাখার চেষ্টা করতে পারেন। সাধারনভাবে সহজে আয়ের কথা বলে যে প্রতারনাগুলি করা হয় সেগুলি নিচে বর্ণনা করা হলো:
প্রতারনা নং ১ আগে টাকা নেয়া
এরই মধ্যে বাংলাদেশে এধরনের অনেক প্রতারনা ব্যবসা করা হয়েছে। সহজে বিপুল পরিমান লাভ দেয়া হবে বলে অগ্রিম টাকা নেয়া হয়েছিল। আপনি ১০ হাজার টাকা দেবেন, এরপর প্রতিমাসে ক্লিক করে ৩ হাজার টাকা করে আয় করতে পারবেন। আপনাকে বোঝানো হয়েছে আপনি এভাবে প্রতিমাসে টাকা পেতেই থাকবেন। মাসে ৩ হাজার হিসেবে বছরে ৩৬ হাজার। জমা টাকার পরিমান ৩৫ কিংবা ৫০ হাজার হলে আয়ের পরিমানও বেশি হবে। আপনাকে হয়ত প্রথম মাসে টাকা দেয়াও হয়েছে। আপনাকে বলা হয়েছে অন্যদের সদস্য বানালে আয় আরো বৃদ্ধি পাবে। আপনার আয় দেখে অন্যরাও টাকা দিয়েছে। ধরুন ৫ জনকে আপনি উত্সাহিত করলেন। সেই ৫ জনের মাধ্যমে আরো ৫০ জন। তাদের মাধ্যমে আরো ১০০।এবার হিসেবটা দেখা যাক। ৫০ জনের কাছে ১০ হাজার করে টাকা নিলে তারা পাচ্ছে অন্তত ৫ লক্ষ। প্রথম মাসে ৩ হাজার করে ফেরত দিলে তাদের হাতে থাকে ৩/৫০ লক্ষ। এটাই তাদের লাভ। এরবেশি ব্যাখ্যা হয়ত কোনো প্রয়োজন নেই। কিছুটা অপ্রাসংগিক মনে হলেও উল্লেখ করতে হচ্ছে, বাংলাদেশে বিপুল পরিমান মানুষের মধ্যে সহজে টাকা আয়ের প্রবনতা রয়েছে। যেকারনে বিভিন্নভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতারনার শিকার হতে হচ্ছে। হাজার টাকা জমা দিলে লক্ষ টাকা পাবেন এই কথা শুনে নিজের টাকা দিয়েছেন। ফ্রিল্যান্সার হতে হলে প্রথমেই এই মানষিকতা ত্যাগ করতে হবে। কেন ফ্রিল্যান্সিং করতে কোন টাকা লাগে না। ফ্রিল্যান্সার টাকা নেবেন কাজের বিনিময়ে। যে পরিমান কাজ সে পরিমাণ টাকা। কাজ না করে টাকা নেয় একমাত্র ভিক্ষুক। ইন্টারনেটে আয়ের জন্য প্রথম শিক্ষা, কাউকে অগ্রীম টাকা দেবেন না। কেউ টাকা চাইলে সেখান থেকে দুরে থাকুন ৷
প্রতারনা নং ২ ভুয়া সাইট
প্রতারনা নং ৩ টাকা দেয়ার
সময় বাধা সৃষ্টি করা এধরনের সাইটকে পুরোপুরি স্ক্যাম বলা কঠিন। এরা সাধারন নিয়ম মেনে কাজ করে, টাকা উঠানোর সময় কখনো কখনো নানা ধরনের শর্ত জুড়ে দেয়। ফলে অনেকে বিভ্রান্ত হন। একজন কাজ করে ঠিকই টাকা পেয়েছেন আরেকজন টাকা পাননি এমন ঘটনা ঘটে। ফ্রিল্যান্সার নামের শীর্ষস্থানীয় সাইটের বিরুদ্ধে এধরনের অভিযোগ করেছেন অনেকে। অভিযোগটা এমন, আপনি ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করার পর আপনার একাউন্টে টাকা জমা হল। যখন সেই টাকা উঠাতে যাবেন তখন আপনার বলা হল আপনার পরিচয় নিশ্চিত করতে। নিজের পরিচয়পত্র, পাশপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইত্যাদি হাতে ধরে ছবি উঠিয়ে পাঠানোর পরও আপত্তি করার উদাহরন অনেক রয়েছে। কিংবা আপনাকে বলা হল যার কাজ (ক্লায়েন্ট) তিনি নিজের পরিচয় নিশ্চিত করেননি। যদিও এটা কোন কারন হতে পারে না। ক্লায়েন্ট তার পরিচয় ফ্রিল্যান্সিং সাইটের কাছে নিশ্চিত করেছেন কি-না সেটা ফ্রিল্যান্সারের খোজ করার বিষয় না। ফ্রিল্যান্সিং সাইটের কাছে যদি সেটা এতই গুরুত্বপূর্ণ হয় তাহলে শুরুতেই তাদের সেটা করা প্রয়োজন ছিল। মূলত এটা প্রতারণা। কাজ বুঝিয়ে দেয়ার পর টাকা দেয়ার সময় এপ্রশ্ন তোলা হবে কেন । এটা টাকা না দেয়ার পদ্ধতি, অন্যকথায় প্রতারনা। কোন কোন সাইট টাকা দেয়ার বিষয়ে খুবই সচেতন। শুধুমাত্র ইমেইল যাচাই করাই যথেষ্ট, নাম-ঠিকানা বা অন্য কোনকিছু নিয়ে তারা মাথা ঘামান না। অনলাইনে আয়ের ক্ষেত্রে সেটাই বাঞ্ছনিয়। কোন সাইটে কাজ করার সময় তাদের সম্পর্কে কোন অভিযোগ আছে কি-না খোঁজ নিয়ে সতর্ক থাকা উচিত। আমি আপনাকে সাজেস্ট করবো আপনি এসমস্ত সাইটে কাজ করার আগে দেখে নিন এই সাইট টা পুরাতন কিনা সাধারনত পুরাতন সাইটগুলো প্রতারণা করে না। যারা কখনো কোন সাইটে প্রতারনার শিকার হন সাধারনত তারা সেটা ইন্টারনেটে কোথাও প্রকাশ করেন । এজন্য ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে সেগুলো খোজ করে দেখুন।
আরো পড়ুন: ব্লাগিং কি ও কেন?

0 Comments
দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন