ইন্টারনেট থেকে আয় আসলে কি সোজা
জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হচ্ছে আপনি সবকিছু জানেন না সেটা উপলব্ধি করা। সেজন্যই প্রয়োজন নিজেকে জানা। এভাবে শুরু করার কারন বাস্তবতা। প্রত্যেকেই কমবেশি এই ভুলের শিকার। আর বিষয়টি যদি ইন্টারনেটেআয় সংক্রান্ত হয় তাহলে সে সম্ভাবনা আরো বেশি।
ক্লিক করে আয়
u's Ges Blith Aug একইভাবে ক্লিক করে আয় (পিটিসি) সম্পর্কে বলা হয়েছে আপনি সারাদিন ক্লিক করে মাসে কয়েকশত (কিংবা কয়েক হাজার) ডলার আয় করতে পারেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়নি আপনাকে সারাদিন ক্লিক করার সুযোগ দেয়া হবে না, কিংবা আয় দেখা গেলেও আপনি কখনো সেই টাকা হাতে পাবেন না। মনে হতে পারে টাকা আয়ের সেই টিউটোরিয়াল সিডি পুরোপুরি ভাওতাবাজি। সিডি বিক্রি করে আয় করার পদ্ধতি। কারো কারো কাছে হয়ত তাই। এর ভাল দিকটি উল্লেখ করা যাক। সেই মাল্টিমিডিয়া থেকেই আগ্রহ জন্যে ব্লগ তৈরীর প্রযুক্তি বিষয়ক একটি ব্লগে (বর্তমানে চালু নেই) প্রযুক্তির সংবাদ এবং রিভিউ লেখার পাশাপাশি ইন্টারনেটে আয়ের সত্যিকারের তথ্য নিয়ে লেখা, এবিষয়ে ক্রমাগত খোজ নেয়ার ফল হচ্ছে একদিকে বর্তমান বাংলা টিউটর সাইট অন্যদিকে পুরোপুরি ফ্রিল্যাপারে পরিণত হওয়া । ইন্টারনেটে আয় সম্পর্কে যখন কিছু বলা হয় তখন মানুষের আগ্রহ সৃষ্টি হয়, এটাই ভাল দিক। কিংবা বলা যেতে পারে প্রথম পদক্ষেপ। আর মন্দ দিক হচ্ছে ভুল পথে পরিচালিত হওয়া, কিংবা অবাস্তব স্বপ্ন দেখা। বর্তমানে সেটা হচ্ছে। কেউ কেউ এরই মধ্যে সহজে টাকা আয়ের প্রতারনার ফাদ ফেলে অনেকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সংবাদ মাধ্যমে তাদের প্রতিবাদের খবর প্রচার হচ্ছে। অন্যদিকে অনেকে সহজ ভেবে শুরু করে হোচট খাচ্ছেন কিংবা যে পরিমান আয়ের কথা বলা হচ্ছে সেটা না পেয়ে হতাস হচ্ছে। মুল বক্তব্যে ফেরা যাক। ইন্টারনেটে সহজে আয় করা যায় কথাটি সত্য না মিথ্যা। সত্য এবং মিথ্যা দুটিই ঠিক। ইন্টারনেটে আয় করা যায় একথা সত্য। সহজে আয় করা যায় একথাও সত্য। সহজে বিপুল পরিমান আয় করা যায় একথা মিথ্যা। সহজ আয় বলতে যা বুঝায় (যেমন বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে) তাতে মাসে ৫ থেকে ১০ ডলার আয় করাও কষ্টকর। এরবেশি আয় করা সম্ভব তবে তখন আর বিষয়টি সহজ থাকে না। এজন্য বিপুল পরিমান কাঠখড় পোড়াতে হয়। তারপরও ইন্টারনেটে আয়, আউটসোর্সিং কিংবা ফ্রিল্যাপিং নিয়ে এত আলোচনা কেন ? কারন আউটসোর্সিং বা ফ্রিল্যান্সিং কাজকে পুরোপুরি পেশা হিসেবে ব্যবহার করা যায়। ডলারে আয় বলে আয়ের পরিমানও তুলনামুলক বেশি। এমনটি সাধারন টাইপিং কাজে প্রতিপেজ ১ থেকে ২ ডলার পাওয়া যায়। লোগো ডিজাইন করে ২০ থেকে ২০০ ডলার পাওয়া যায় কিংবা ওয়েবসাইট তৈরী করে হাজার ডলার পর্যন্ত পাওয়া যায়।
আরো পড়ুন: ব্লগিং কি ও কেন
যে সমস্ত পদ্ধতিতে ইন্টারনেট থেকে টাকা আয় করা যায়
বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি বেশি গুরুত্ব বহন করে প্রথমত কম মজুরীর সুবিধার কারনে। মাসে ৫০০ ডলার আয় করে বাংলাদেশে ভালভাবে চলা যায় (অন্তত ঢাকা শহরের বাইরে)। উন্নত দেশের কেউ এই টাকায় চলতে পারেন না। কাজেই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যখন কাজ দেয়া হয় তখন বাংলাদেশ থেকে তুলনামূলক কম টাকায় কাজ নেয়া সম্ভব। চাহিদার সাথে মিল রেখে যখন স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান হচ্ছে না তখন ফ্রিল্যাপিং দেশের কর্মসংস্থানে পরিবর্তন আনতে পারে। প্রথমেই একটি ভুলকে ভুল বলে মেনে নিন। ফ্রিল্যান্সিংকে সহজ কাজ না। এজন্য কোন একটি কাজে দক্ষ হতে হয়। এমনকি সাধারন টাইপিং (ডাটা এন্ট্রি) কাজেও দ্রুত-নির্ভুল টাইপ করতে হয়। শুধুমাত্র কাজ করতে পারাই যথেষ্ট না, কাজ পাওয়ার জন্য যোগাযোগ করা, কাজ পাওয়া, ক্লায়েন্টের সাথে যোগাযোগ রাখা, টাকা বুঝে পাওয়া সবকিছুর জন্য নিয়মমাফিক কাজ করতে হয়। ইংরেজিতে মোটামুটি দক্ষতা প্রয়োজন হয়। যথেষ্ট সময় ব্যয় করতে হয়। সহজ-কঠিন বিষয়টি আপেক্ষিক। একজনের কাছে যা সহজ অপরজনের কাছে তা কঠিন, আরেকজনের কাছে অসম্ভব। একজন ওয়েব ডেভেলপার কয়েক ঘন্টায় একটি সাইট তৈরী করে হাজার ডলার আয় করতে পারেন, কাজেই একে সহজে যথেষ্ট পরিমান আয় বলতে পারেন। কিন্তু এই কাজ শেখার জন্য তাকে যে সময়, শ্রম, মেধা ব্যয় করতে হয় সেটা সহজ না। ইন্টারনেটে সহজে বিপুল পরিমান আয় করা যায় কথাটার ব্যাখ্যা এভাবে ধরে নিতে পারেন, যদি নির্দিষ্ট কোন বিষয়ে দক্ষ হতে পারেন, কাজটি সহজে করতে পারেন, তাহলে তাকে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে ব্যবহার করে যথেষ্ট আয় করতে পারেন। টাকা আয় সহজ না, কাজটি যখন আপনার কাছে সহজ মনে হয় তখন কাজ করা সহজ। এই ব্যাখ্যা নিশ্চয়ই ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য যথেষ্ট না। এজন্য প্রয়োজন আয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে জানা, কাজের ধরন, কাজ পাওয়ার যায়গা, কাজ পাওয়ার পদ্ধতি, টাকা পাওয়ার পদ্ধতি ইত্যাদি স্পষ্টভাবে বোঝা। সেইসাথে কোথায় সমস্যা হতে পারে, কোন ধরনের সমস্যা হতে পারে, কোন সমস্যার সমাধান কিভাবে করতে হয় ইত্যাদি জানা। আরেকবার উল্লেখ করতে হচ্ছে, যারা নিয়মিত কাজ করেন, বিভিন্ন সময় নানাধরনের সমস্যার সম্মুখিন হয়েছেন তারা বাংলা-টিউটর সাইটে তাদের অভিজ্ঞতার কথা লিখে তথ্যকে সমৃদ্ধ করতে সাহায্য করেছেন। এখানে দেয়া তথ্যকে মনগড়া ধরে নেবেন না।

0 Comments
দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন