বাংলা পয়গাম https://poygambd.blogspot.com/2022/04/blog-post_15.html

কোরআন অনুবাদ এর ইতিহাস

 অনুবাদ না বা ভাষান্তর তেমনই একটি জটিল বিষয় কোরআনের মত একটি আসমানী গ্রন্থের ব্যাপারে জটিলতার স্পর্শকাতরকার বিষয়টিও জড়িত। না মানুষের তৈরি গ্রন্থের বেলায় বক্তার কথার হুবাহু অন্য ভাষান্তর না হলে তেমন কি-ই বা না আসে যায়। বড়জোর বলা যায় অনুবাদক মূল লেখক এর কথাটার সাথে এর যথাযথ ইনসাফ করতে পারেননি। কিন্তু কোরআনের ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ যে, অনুবাদকের একটু হেরফের হলে স্বয়ং আল্লাহতায়ালার পাথার বিতর্ক হয়ে পড়ার আশংকা দেখা দেয়। এসব কারণে মুসলমানদের মাঝে কেউই এই দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কোরআনের অনুবাদের ঝুঁকি নিতে চায়নি। এমনকি বিগত শতকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত মধ্য এশিয়ার আলেমরা ফতোয়ার মাধ্যমে তাতিরী বাসায় কোরআনে যাবতীয় অনুবাদ চেষ্টা বন্ধ করে রাখেন। আফ্রিকা মহাদেশে বিশেষ করে নাইজেরিয়া ও নাইজারে দীর্ঘদিন পর্যন্ত তাদের ভাষায় কুরআনের অনুবাদ এই বলে বন্ধ করে রাখেন যে এতে কোরআনের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হবে। একসময় এই মহাদেশের ক্যামেরুন রাজ্যর সুলতান সাঈদ নিজেও আলেমদের প্রবল বিরোধিতার কারণে "বারুম"ভাষায় কুরআনের অনুবাদ কাজ থেকে ফিরে আসেন। মুসলিম  দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ফতোয়া বর্গ এই সেদিন পর্যন্ত পরানের যাবতীয় অনুবাদকের্মের বিরোধিতা করে আসছিল।

কোরআন অনুবাদ এর ইতিহাস

অনুবাদ যে সময় থেকে শুরু হয়েছে

১৯২৬ সালে তুরস্কের ওসমানী খেলাফত বিলুপ্তির পর তৃর্কী ভাষায় কোরআন অনুবাদ প্রচেষ্টার তারা বিরোধিতা করেন। কোরআনের ইংরেজি অনুবাদক নও-মুসলিম মার্মাডিউক পিকথল যখন কোরআনের অনুবাদ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন তখন হায়দ্রাবাদের  প্রশাসক নিজাম তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিলেও আলআযহার কর্তৃপক্ষ এই উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করেন।অবশ্য দীর্ঘদিন পর হলেও মক্কা ভিত্তিক মুসলিম সংস্থা রাবেতা আল- আলম আল- ইসলামী আয়োজিত বিশ্বের সর্বমতের  ওলামায়েকরাম কোরআন অনুবাদ এর একটি ঘোষণাপত্রে সই করে এই পথের যাবতীয় বাধা অপসারণ করেন। কিন্তু এটাতো হাজার ১৯৮১ সালের কথা মাত্র কয়েক দিনের ঘটনা। অবশ্য এর ও বহু আগে ইংরেজ লেখক জর্জ সেল কোরআনের অনুবাদ প্রকাশ করেছেন। ১৭৩৪ সালে এই অনুবাদ কর্ম টির প্রথম খন্ড প্রকাশিত হয়। ১৭৬৪ সালে এর পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ মুদ্রিত হয়। ১৮২৫ সালে এটি পুনমূদ্রিত হয়। জর্জ সেল-এর অনুবাদ কি ছিল সরাসরি আরবী থেকে। এর আগে অবশ্য আরেকটি ইংরেজি অনুবাদ বেরিয়েছে১৬৪৯ সালে। আলেকজান্ডার রস অনূদিত কোরআনটি ছিল ফার্সি ভাষা থেকে। নাম ছিল আল কোরআন এন্ড মহামেট।

রাসুল(সা) কোরআন অনুবাদ শুরু করেছিলেন


আমরা যদি আজ কোরআনের ইতিহাস পর্যালোচনা করি তাহলে দেখতে পাব আল-কোরআন অনুবাদের এই মুবারক কাজটি স্বয়ং তার হাতেই শুরু হয়েছে যার উপর এই কোরআন নাজিল হয়েছে। আমরা জানি আল্লাহর রাসূল তাঁর দাওয়াতের এক পর্যায়ে তৎকালীন বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে দূত পাঠাতেন। তার পাঠানো চিঠিতে একাধিক কোরআনের আয়াত লেখা থাকতো। যেসব দেশের রাজা বাদশারা আরবি বুঝতেন না, রসূলের দূত তাদের কাছে মূল চিঠির অংশ হিসাবে অবশ্যই তাদের ভাষায় সে সব আয়াতের অনুবাদ করতে। 


এ কারণেই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনায়ক প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দূতকে যে দেশে পাঠাতেন তাকে আগেই সেই দেশের ভাষা  শিখতে বলতেন। অধিকাংশ নতুন এলাকায় তিনি পারদেশী দোভাষীও পাঠাতেন। ঐতিহাসিক ইবনে সা'দ বলেন আল্লাহর নবী সাধারণত সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষায় অভিজ্ঞ লোকদের দূত করে পাঠাতেন। ইবনে সা'দ আরো বলেন প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ব্যক্তিগত সহকারীর ওহী লেখক হযরত জায়েদ বিন সাবেত (রা:) কে সিরিয়ার ও হিব্রু ভাষা শেখার আদেশ দিয়েছিলেন।


অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

MD.julker nine
পোস্ট করেছেনঃ MD.julker nine
পোস্ট ক্যাটাগরিঃ
0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

Blogger দ্বারা পরিচালিত.

 عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، قَالَ : " كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَبْعَةً ، لَيْسَ بِالطَّوِيلِ وَلا بِالْ...

টেক জান প্রো কী?