বাংলা পয়গাম https://poygambd.blogspot.com/2022/04/blog-post_30.html

পাহাড়ের গঠন

 ভূতত্ব বিদ্যায় ভাজ করার বিষয়টি সম্প্রতি আবিষ্কৃত সত্য এবং পাহাড় - পর্বত সৃষ্টির পেছনে ভাঁজ করার বিষয়টি কার্যকর।
পাহাড়ের গঠন

আমরা যে ভূপৃষ্ঠে বাস করি তা শক্ত ছালের মত।পক্ষান্তরে এর গভীর স্তরগুলো গরম ও তরল যা কোন প্রাণী বাস করার উপযোগী নয়।এটা জানা কথা যে, পাহাড় - পর্বতের স্থিতিশীলতার সম্পর্ক ভাঁজ করার ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত।কেননা ভাঁজ করার ফলেই পাহাড় - পর্বতের ভিত্তি তৈরি হয়েছে‌।  ভূতত্ববিদরা বলেন যে, পৃথিবীর ব্যাসার্ধ হল,৬,০৩৫ কিলোমিটার।আর আমরা যে ভূপৃষ্ঠে বাস করি তা বেশী পাতলা যার পারিসর ২-৩৫ কিলোমিটার।যেহেতু,ভূপৃষ্ঠ পাতলা,তাই তার নড়ার সম্ভাবনা বেশী।পাহাড় গুলো খুটি কিংবা তাঁবুর পেরেকের মত কাজ করে যা ভূপৃষ্ঠকে স্থিতিশীল রাখে।কোরআন হুবহু এরূপ কথাই বলেছে।আল্লাহ বলেনঃ 

اَلَمۡ  نَجۡعَلِ الۡاَرۡضَ مِہٰدًا ۙ

وَّ  الۡجِبَالَ  اَوۡتَادًا  

“আমরা কি যমীনকে বিছানা এবং পাহাড়কে পেরেক লোহা বানাইনি?” (সূরা আন নাবা- ৬-৭) 

(اَوۡتَادًا) এগুলো হল,ভৌগলিক ভাঁজের ভিত্তি।‘Earth’নামক একটি বই বিশ্বের বহু বিশ্বদ্যালয়ে ভূ-তত্ব বিদ্যার রেফারেন্স বই হিসেবে গণ্য হয়।ঐ বইয়ের একজন প্রখ্যাত লেখক হলেন ডঃ ফ্রাস্ক প্রেস।তিনি ১২ বছর ব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান একাডেমীর প্রেসিডেন্ট এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিম্মি কার্টরের বিজ্ঞান উপদেষ্টা ছিলেন।ঐ বইতে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে,পাহাড় হচ্ছে গোঁজ বা পেরেকের আকৃতি বিশিষ্ট এবং তা সকল কিছুর একটা ক্ষুদ্র অংশ মাত্র যার মূল মাটির গভীরে প্রোথিত।ডঃ প্রেসের মতে, পাহাড় ভূপৃষ্টের স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  কোরআন মজীদ পাহাড়ের কার্যক্রম পরিষ্কার ভাবে উল্লেখ করে বলেছে, তা পৃথিবীকে কম্পন ও নড়া থেকে রক্ষা করে।আল্লাহ বলেনঃ

وَ جَعَلۡنَا فِی الۡاَرۡضِ رَوَاسِیَ اَنۡ تَمِیۡدَ بِہِمۡ ۪ وَ جَعَلۡنَا فِیۡہَا فِجَاجًا سُبُلًا   لَّعَلَّہُمۡ  یَہۡتَدُوۡنَ 

“এবং আমি পৃথিবীতে সৃষ্টি করেছি সুদৃঢ় পর্বত যাতে পৃথিবী তাদেরকে নিয়ে এদিক-ওদিক টলে না যায় এবং আমি তাতে করে দিয়েছি প্রশস্ত পথ যাতে তারা গন্তব্য স্থলে পৌঁছতে পারে।(”সূরা আল আম্বিয়া -৩১) 

خَلَقَ السَّمٰوٰتِ بِغَیۡرِ عَمَدٍ تَرَوۡنَہَا وَ اَلۡقٰی فِی الۡاَرۡضِ رَوَاسِیَ  اَنۡ تَمِیۡدَ بِکُمۡ وَ بَثَّ فِیۡہَا مِنۡ کُلِّ دَآبَّۃٍ ؕ وَ اَنۡزَلۡنَا مِنَ السَّمَآءِ مَآءً  فَاَنۡۢبَتۡنَا فِیۡہَا مِنۡ  کُلِّ  زَوۡجٍ  کَرِیۡمٍ 

তিনি আকাশমন্ডলী নির্মাণ করেছেন স্তম্ভ ব্যতীত, তোমরা এটা দেখছ। তিনিই পৃথিবীতে স্থাপন করেছেন পবর্তমালা যাতে এটা তোমাদেরকে নিয়ে ঢলে না পড়ে এবং এতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সর্ব প্রকার জীব-জন্তু এবং আমিই আকাশ হতে বারি বর্ষণ করে এতে উদ্ভব করি সর্বপ্রকার কল্যাণকর উদ্ভিদ।(সূরা লোকমানের ১০)

وَ اَلۡقٰی فِی الۡاَرۡضِ رَوَاسِیَ اَنۡ  تَمِیۡدَ بِکُمۡ  وَ اَنۡہٰرًا وَّ سُبُلًا  لَّعَلَّکُمۡ تَہۡتَدُوۡنَ 

আর তিনি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পর্বত স্থাপন করেছেন, যাতে পৃথিবী তোমাদেরকে নিয়ে আন্দোলিত না হয় এবং স্থাপন করেছেন নদ-নদী ও পথ, যাতে তোমরা তোমাদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পার।(নাহলের- ১৫) 

এখন আমরা যে পাহাড় দেখি এর সামান্য অংশ জমিনের উপরে বাকিটা জমিনেন নিচে। যেমন সাগরের বরফ যেটার কিছু অংশ পানি উপরে দেখা যায় আর সম্পর্ণটা পানির নিচে।কোরআনের বর্ণনা আধূনিক বিজ্ঞানের সাথে সম্পর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।

ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগ বহু শক্ত প্লেটে বিভক্ত এবং এর ঘনত্ব হচ্ছে ১০০কিলোমিটার। প্লেটগুলো আংশিক গলিত অঞ্চলে ভাসমান,যাকে Aesthenosphere বলে।  প্লেটের সীমানে- পাহাড়গুলো অবস্থিত।ভূপৃষ্ঠের ত্বক সাগরের ৫ কিলোমিটার নীচ পর্যন্ত ঘন।প্রায় ৩৫ কিলোমিটার ঘন নীচু প্লেট হচ্ছে মহাদেশের উপরিভাগ এবং প্রায় ৮০ কিলোমিটার ঘন নীচুতে বিশাল পাহাড়ের পরিসর।এগুলো পাহাড়ের শক্তিশালী ভিত্তি।কোরআন নিম্নের আয়াতে পাহাড়ের ঐ শক্ত ভিত্তি কথা উল্লেখ করেছে। 

 وَ الۡجِبَالَ  اَرۡسٰہَا 

আর পর্বতকে তিনি দৃঢ়ভাবে প্রোথিত করেছেন (সূরা নাযিয়াত -৩২) 

وَ  اِلَی الۡجِبَالِ کَیۡفَ نُصِبَتۡ 

এবং পর্বতমালার দিকে যে, কিভাবে ওটা দৃঢ়ভাবে স্থাপন করা হয়েছে?গাশিয়ার ১৯

পাহাড়ের গঠন সম্পর্কে পবিত্র কোরআনের বর্ণনা ভূতত্ব বিদ্যার সাথে পুরো মিলে যায়।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

MD.julker nine
পোস্ট করেছেনঃ MD.julker nine
পোস্ট ক্যাটাগরিঃ
0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

Blogger দ্বারা পরিচালিত.

 عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، قَالَ : " كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَبْعَةً ، لَيْسَ بِالطَّوِيلِ وَلا بِالْ...

টেক জান প্রো কী?