বাংলা পয়গাম https://poygambd.blogspot.com/2022/04/blog-post_2.html

বাংলা ভাষায় কুরআন অনুবাদের ইতিহাস

 

বাংলাভাষায় কোরআন অনুবাদের কাজ আসলেই অনেক দেরীতে শুরু হয়েছে। এর পেছনে কারণ ছিলো অনেক। প্রথমত আমাদের এই ভূখন্ডে যারা কোরআনের এলেমের সাথে সুপরিচিত ছিলেন- সেসব কোরআন সাধকদের অনেকেরই কোরআন শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র ছিলো ভারতের উর্দু প্রধান এলাকার ঐতিহ্যবাহী দ্বীনী প্রতিষ্ঠান দেওবন্দ, সাহারানপুর, নদওয়া, জামেয়াতুল এসলাহ্, জামেয়াতুল ফালাহসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এর সবকয়টির ভাষাই ছিলো উর্দু কিংবা ফার্সী, তাই স্বাভাবিকভাবেই এসব দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে যারা উচ্চতর সনদ নিয়ে বের হন তাদের কোরআন গবেষণার পরিমন্ডলও সে ভাষার বাইরে ছড়াতে পারেনি। 
দ্বিতীয়ত পলাশীর ট্রাজেডির ফলে আমাদের এ অঞ্চলে কোরআন গবেষণার কাজটি বলতে গেলে স্থবিরই হয়ে পড়েছিলো। ফলে এ সময় বাংলা আসামে কোরআনের আশানুরূপ কোনো অনুবাদই হয়নি। তৃতীয় কারণ হিসেবে বাংলা মুদ্রণযন্ত্রের কথা উল্লেখ করতে হয়। ১৭৭৭ সালে মুদ্রণযন্ত্র আবিস্কার হলেও এ অঞ্চলের মুসলমানরা ১৮১৫ সালের আগে বাংলা মুদ্রণযন্ত্রের সাথে পরিচিত হবার কোনো সুযোগই পাননি।



কে প্রথম কোরআনের বাংলা অনুবাদ করে

 কে প্রথম কোরআনের বাংলা অনুবাদের সৌভাগ্যজনক এ কাজটি শুরু করেন, তা নিয়ে আমাদের মাঝে বিভ্রান্তির অন্ত নেই। কে বা কারা আমাদের সমাজে একথাটা চালু করে দিয়েছে, ব্রাহ্মণ ধর্মের নববিধান মন্ডলীর নিষ্ঠাবান ধর্মপ্রচারক গিরিশ চন্দ্ৰ সেন সর্বপ্রথম কোরআনের বাংলা অনুবাদ করেছেন। আমাদের সাহিত্য সংস্কৃতিতে দীর্ঘ দিন ধরে যাদের সর্বময় আধিপত্য বিরাজমান ছিলো তারাই যে কথাটা ছড়িয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। দুঃখ লাগে যখন দেখি আমাদের এ অঞ্চলের দু'একজন কোরআন মুদ্রাকর প্রকাশকও তাদের সাথে সুর মিলিয়ে ঐতিহাসিকভাবে অসমর্থিত এমনি একটি কথা অবাধে প্রচার করে চলেছেন। অথচ কোরআন ও কোরআনের শিক্ষার প্রতিটি ছাত্রই জানে তার অনুবাদের পাতায় কোরআনের শিক্ষা সৌন্দর্য বাকধারার সাথে ব্রাহ্মণবাদের প্রচারনীতিতে কোরআনের প্রতি কিছু কিছু বিদ্বেষও ছড়ানো রয়েছে। গিরিশ চন্দ্র সেনের ৬ বছর আগে অর্থাৎ ১৮৭৯ সালে আরেকজন অমুসলিম রাজেন্দ্রলাল মিত্র কোরআনের প্রথম পারার অনুবাদ করেন। কলকাতার আয়ুর্বেদ প্রেস থেকে এক ফর্মার (১৬ পৃষ্ঠা) এই অনুবাদ ৫০০ কপি ছাপাও হয়েছিলো।

 

 ১৮৮৫ সালে গিরিশ চন্দ্র সেনের এই অনুবাদের প্রায় ৮০ বছর আগে অর্থাৎ ১৮০৮ সালে পূর্ব বাংলার রংপুর নিবাসী একজন সাধারণ কোরআন কর্মী মওলানা আমিরুদ্দীন বসুনিয়া কোরআনের প্রথম বাংলা অনুবাদের কাজে হাত দেন। তিনি সে সময় কোরআনের আমপারার অনুবাদ সম্পন্ন করেন। এ ঐতিহাসিক তথ্যের সমর্থন।



রয়েছে ঢাকা ও কলকাতার প্রায় সবকয়জন কোরআন গবেষকের লেখায়। উভয় বাংলার প্রায় সবকয়টি কোরআন গবেষণা সংস্থা ও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানই এ ব্যাপারে। একমত যে, মওলানা আমিরুদ্দীন বসুনিয়াই সে সৌভাগ্যবান মানুষ যিনি বাংলাভাষায় কোরআন অনুবাদের এই মহান কাজটির শুভ সূচনা করেছেন। গত এক দুই দশকে। আমাদের দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষায় কোরআন অনুবাদের ইতিহাসের ওপর যেসব পি এইচ ডি থিসিস লেখা হয়েছে তাতেও এ তথ্য সমভাবে সমর্থিত হয়েছে।


 ১৮১৫ সালে বাংলা মুদ্রণযন্ত্র ব্যবহার শুরু হওয়ার পরপর কলকাতার | মির্জাপুরের পাঠোয়ার বাগানের অধিবাসী আকবর আলী এ কাজে এগিয়ে আসেন। তিনিও মাওলানা আমিরুদ্দীন বসুনিয়ার মতো শুধু আমপারা ও সূরা ফাতেহার বাংলা অনুবাদ সম্পন্ন করতে পেরেছিলেন। তার অনূদিত অংশটি ছিলো পুথির মতো। তার এ অনুবাদ কোরআনের কোনো মৌলিক অনুবাদও ছিলো না। তিনি যেটা করেছেন তা ছিলো ১৭৮০ সালে অনূদিত শাহ আবদুল কাদের (র.)-এর উর্দু অনুবাদের বাংলা। সরাসরি কোরআনের অনুবাদ নয় বলে সুধী মহলে এটা তেমন একটা স্বীকৃতি লাভ করেনি। আসলে ব্যক্তি যতো গুরুত্বপূর্ণ হোন না কেন, তিনি যদি কোরআনকে কোরআন থেকে অনুবাদ না করেন তাহলে তাকে কখনো কোরআনের অনুবাদ বলে চালিয়ে দেয়া উচিত নয়। কোরআনের 'নাহু ছরফ' ব্যাকরণ বিধি, বিশেষ বাকধারা, "ফাছাহাত বালাগাত' ভাষাশৈলী, শিল্প সৌন্দর্যের বিষয়গুলো কোরআন গবেষণার এমন কিছু মৌলিক বিষয় যা অন্য ভাষায় অনুদিত অনুবাদ থেকে গ্রহণ করা মোটেই ঝুকির বাইরে নয়।

 

 কোরআনের প্রথম অনুবাদক মওলানা আমিরুদ্দিন বসুনিয়া কোরআনের পূর্ণাংগ অনুবাদ করে যেতে পারেননি। গিরিশ চন্দ্র সেনের পূর্ণাংগ অনুবাদ কর্মটি ছিলো নানা দোষে দুষ্ট, তাই তার অনুবাদের মাত্র ২ বছরের ভেতরই কোরআনের বিশ্বস্ত ও পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ কর্ম নিয়ে হাযির হয়েছেন বিখ্যাত কোরআন গবেষক মাওলানা নায়ীমুদ্দীন (র.)। এর আগে কলকাতার একজন ইংরেজ পাদ্রীও কোরআনের অনুবাদ করেছিলেন । শোনা যায়, মাওলানা আমিরুদ্দীন বসুনিয়া থেকে গিরিশ চন্দ্র সেন পর্যন্ত অর্থাৎ ১৮০৮ থেকে ১৮৮৫ সালের মধ্যে আরো ৯ জন ব্যক্তি কোরআন অনুবাদ করেছেন। আল্লাহ তায়ালার শোকর, আল কোরআন একাডেমী লন্ডন বাংলা ভাষায় ২০০৮ সালকে কোরআন অনুবাদের ২০০ বছর পূর্তি বছর হিসেবে উদযাপন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় এ বিষয়ে আরো অনেক অজানা তথ্য জনসমক্ষে আসতে শুরু করেছে।


অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

MD.julker nine
পোস্ট করেছেনঃ MD.julker nine
পোস্ট ক্যাটাগরিঃ
0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

Blogger দ্বারা পরিচালিত.

 عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، قَالَ : " كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَبْعَةً ، لَيْسَ بِالطَّوِيلِ وَلا بِالْ...

টেক জান প্রো কী?